সবার আগে বাংলাদেশ

ক্রীড়া হলে পেশা — পরিবার পাবে ভরসা

বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বিএনপি'র ২২ দফা জাতীয় পরিকল্পনা

লাল-সবুজের বাংলার ইতিহাস সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, স্বপ্ন এবং রক্তের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মোৎসর্গে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ নতুন দিগন্তে দাঁড়িয়ে ভেবেছিলো, আমরা কেমন দেশ গড়তে চাই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ক্রীড়াঙ্গনের দিকে তাকানো ছাড়া উপায় ছিলো না, এখনো নেই। কারণ, খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চা বা বিনোদনের মাধ্যম নয়— এটি একটি জাতির চরিত্র গড়ে তোলার সবচেয়ে শুদ্ধ উপায়; শৃঙ্খলার শিক্ষা, নৈতিকতার অনুশীলন, মাদকমুক্ত মনন এবং কর্মসংস্থানের স্থায়ী ভিত্তিই যার অন্যতম লক্ষ্য। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনুভব করেছিলেন, একটি সমাজকে সুস্থ, সৃজনশীল ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হলে খেলাধুলাকে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার কেন্দ্রে আনতেই হবে। তাঁর কাছে ক্রীড়া ছিলো তরুণ প্রজন্মকে কর্মদক্ষতায় উদ্ধুদ্ধ করার রূপান্তরমূলক শক্তি; একইসাথে একটি নতুন অর্থনৈতিক ধারার সূচনা— যেখানে ক্রীড়া হবে কর্মসংস্থানের শক্তিশালী শিল্প, একটি নতুন অর্থনৈতিক খাত। এই ধারা আরো শক্তিশালী হয় বিএনপির চেয়ারপার্সন ও জনগণের ভোটের ৩বার নির্বাচিত দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ক্রীড়াশীল একটি জাতির অগ্রগতি তার মাঠে গড়া সাফল্য দিয়েই নির্ধারিত হয়। তাই তিনি অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, সংগঠন— সবক্ষেত্রেই ক্রীড়ার বিকাশকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্রীড়াকে তথা খেলাধুলাকে দেখছেন বাংলাদেশের বৈশ্বিক পরিচয় নির্মাণের একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে। তাঁর দৃষ্টিতে, তৃণমূলের মাঠ থেকে অলিম্পিকের পোডিয়াম পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ; যেখানে, সমানভাবে গুরুত্ব পাবে দেশের প্রতিটি খেলা তথা ক্রীড়াঙ্গন। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে বিএনপি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য তৈরি করেছে ক্রীড়াবিষয়ক জাতীয় রূপরেখা। খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়; এটি আমাদের আশা, আমাদের পরিচয়, আমাদের আগামী— এই প্রতিপাদ্যকে বিশ্বাস করেই বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে আগামীর পথে, তারুণ্যে ঘেরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে...

২২ দফা — সারসংক্ষেপ

১ • খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা

২ • জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা

৩ • নতুন কুড়ি স্পোর্টস কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিভাবান অনূর্ধ্ব ১২-১৪ বছরের ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান

৪ • বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ

৫ •ক্রীড়াগান নারীর অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশে ও আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা

৬ • দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধা বঞ্চিতদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা

৭ • সকল মহানগর সহ দেশের গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠের সুধাবস্থা

৮ • বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধা সম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি

৯ • দেশের সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ইনডোর সুবিধা সম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি

১০ • বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করা

১১ • বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়রামে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করা

১২ • দেশের প্রতিটি উপজেলার ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা

১৩ • প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা

১৪ • পর্যায়ক্রমে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিক

১৫ • পর্যায়ক্রমে ক্রীড়াঙ্গদের সহায়তার লক্ষেন বাংলাদেশ ক্রীড়া উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিটা

১৬ • দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন

১৭ • বিদেশী ক্রীড়া সংস্থার সাথে চুক্তির মাধ্যমে দেশের ক্রীড়ার মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিশ্চিত করা

১৮ • পর্যায়ক্রমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদ প্রকাশে ক্রীড়া পত্রিকা চালু করা

১৯ • পর্যায়ক্রমে ২৪ ঘন্টা ক্রীড়া সম্প্রচারের জন্য স্পোর্টস টিভি চ্যানেল চালু করা

২০ • পর্যায়ক্রমে নিয়মিত ক্রীড়া সংবাদ প্রচারের জন্য স্পোর্টস রেডিও চ্যানেল চালু করা

২১ • শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন

২২ • বেসরকারি স্পোর্টস একাডেমিসমূহকে সরকারি/রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা ও সংরক্ষণ